Ashraful, The Legend.. আশরাফুল এক মহাকাব্য।।

যার ব্যাট হাসলে হাসত পুরো বাংলাদেশ ( শেষ পর্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল শুধু একটা নাম নয়। কোটি ভক্তের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর আবেগের নাম এই মোহাম্মদ আশরাফুল। বিশেষ করে যারা ৯০ এর দশকে যারা বেড়ে উঠেছেন, তাদের শৈশব কৈশোরের ক্রিকেটীয় স্মৃতির একটা বড় অংশ মোহাম্মদ আশরাফুল। তখনকার বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশ এক নয়। তখন ম্যাচ জিততাম কালে ভদ্রে। আর বড় দলগুলোর সাথে সে ত আকাশ কুসুম চিন্তা। এই আকাশ কুসুম কল্পনার বাস্তব রূপ দিতে পারতেন কেবল একজন তিনি আশরাফুল। গায়ানা থেকে জোহানেসবার্গ কিংবা কার্ডিফ থেকে গল সবখানেই আশরাফুলের ব্যাট ছিল চওড়া। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থেকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয় আশরাফুল। তবে ২০১৬ সালে ১৩ আগস্ট ঘরোয়া লিগ খেলার অনুমতি পান। মাঝে তিনটা বছর উইলো আর চর্মগোলকের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বাহিরে ছিলেন। মাঝের এই তিন বছর তিনি যতখানি ২২ গজকে মিস করেছে, ওই ২২ গজ তার চেয়ে বেশি তাকে মিস করেছে। মিস করেছে তার কোটি ক্রিকেট ভক্ত। মিস করেছে একসাথে ড্রেসিং রুম শেয়ার করা তার সতীর্থরা। ১৬ সালে ফিরেই ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিস্ট এ তে ৫ সেঞ্চুরিতে ১৩ ম্যাচে ৬৬.৫০ গড়ে ৬৬৫ রান করেছিলেন। লিস্ট-এ টুর্নামেন্টে ৫ সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। এরপর বিসিএল এবং এনসিএল ও দারুণ খেলেছেন আশরাফুল। সর্বশেষ জাতীয় লিগে ৭ ইনিংসে এক ফিফটি, এক সেঞ্চুরিতে করেছেন ২৬১ রান। যেখানে গড় ছিল ৪৩.৫০। গত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) দুই ফিফটি এক সেঞ্চুরিতে ৫৩.৮৩ গড়ে তোলেন ৩২৩ রান। তবে ২০১৯ সালের বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন নি। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর তার জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছিলেন, ‘তার বয়স কোনো বিষয় নয়। যদি ফিটনেস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানের হয়, তাহলে যে কোনো খেলোয়াড়ই জাতীয় দলে আসতে পারে। তার বয়সের কথা তোলা হচ্ছে। কিন্তু আশরাফুল দেশের জন্য একসময় অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তার সামর্থ্য আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।’ ৩৫ বছর বয়সী অ্যাশ নিজেও তার ফিটনেস নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। যার কারণে সবশেষে বিপিএলে আশরাফুল দল পায় নি । দল না পেলেও মনোবল হারান নি তিনি। সময়টা কাজে লাগিয়েছেন অন্যভাবে। গত ৫০ দিনে কমিয়েছেন ১২ কেজি ওজন। ৭৩ কেজি থেকে নেমে এসেছেন ৬১ কেজিতে। এবারের বিসিএলের জন্য বিপ টেস্টের মানদণ্ড যেখানে ধরা হয়েছিল ১০.৫। সেখানে আশরাফুল পেয়েছেন ১১.১১ পয়েন্ট। এবারের বিসিএলে আশরাফুল খেলবেন ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের হয়ে। দারুণ কিছু করে দেখাতে পারলে সাদা পোশাকের জন্য নির্বাচকদের বিবেচনায় আসতে পারে মোহাম্মদ আশরাফুলের নাম। আশরাফুলের মত সেই প্রত্যাশা আর প্রতীক্ষায় কোটি আশরাফুল ভক্ত। ২২ গজে আবারো উইলো হাতে আদৌতে কি দেখা যাবে ছিপছিপে গড়নের ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির লিটিল মাস্টারকে? এই প্রশ্ন এখন তোলা থাক। বিসিএলে এবারের আসরের আশরাফুল নিজেকে স্ব-মহিমায় মেলে ধরুক,অনবদ্য কিছু করে নির্বাচকদের নজর কারুক আপাতত এই কামনায়। ম্যাশ আর অ্যাশ জাতীয় দলে প্রায় একই সময় এসেছিলেন। তারা ভাল বন্ধু ও। বিদেশে সিরিজ খেলতে গেলে হোটেলে এক রুমেই থাকতেন দুই বন্ধু। যদিও দুজনের জন্য দুটো রুমই বরাদ্দ থাকত। সেই মাশরাফি তার ক্যারিয়ারের অন্তিম-লগ্নে অথচ আশরাফুল আরও একবার গায়ে জড়াতে চান লাল সবুজের জার্সি। লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে। ক্রিকেট বিধাতা তার শেষটা কিভাবে লিখে রেখেছেন কে জানে?

Comments

Popular posts from this blog

যে ১০টি মুহূর্ত ধোনিকে ধোনি বানিয়েছে... ভারতীয় ক্রিকেট ধোনির মতো আর কাউকে পাবে কি?

লিটল মাস্টার শচীন। Little Master Shahin.. শচীন টেন্ডুলকারের জীবনী

সাকিবের ক্যারিয়ারের ‘১৪’ বছরে ১৪টি ঘটনা। সাকিব আল হাসান।