বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সাকিব। ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সাকিব। ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার। জ্যাক ক্যালিসকে বলা হয় ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার, অথচ সেই জ্যাক ক্যালিসের কাছেই প্রোটিয়ারা কখনো ১০ ওভার বোলিং চায় নি। টপ অর্ডারে ব্যাটিং করো, ফিফটি, সেঞ্চুরি করো আর দলের প্রয়োজনে সিক্সথ বোলার হিসেবে বল করো। ব্যাস ব্যাটের সাথে হাতটা ভালোমন্দ ঘুরাতে পারতেন বলেই আজ সেরা অলরাউন্ডার। কপিল দেব, ইমরান খান দের মতো সেরা অলরাউন্ডার খেতাব পাওয়া তাদের কাছ থেকে ও ভারত পাকিস্তানিরা কখনো ফিফটি সেঞ্চুরি চায় নাই, তারা চেয়ছিল শুধু যেন ১০ টা ওভার বল করতে পারে, আর বোনাস হিসাবে দলের প্রয়োজনে লোয়ার অর্ডারে নেমে গোটাকয়েক রান করা। ব্যাস তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছিল,তারা তাদের দেশে এখন সম্মানিত। কিন্তু সাকিব? তার কাছ থেকে আমরা কি কি চাই? দলের মেইন বোলার সে আবার দলের ব্যাটিং স্তম্ভ ও সে। কিভাবে সম্ভব ম্যান? সাকিব একাদশে আছে? তাহলে আর ৪ টা বোলার রাখো একাদশে! সাকিব একাদশে আছে? তাহলে আর ৬ ব্যাটসম্যান রাখো! ১০ ওভার বল করার দরকার? সাকিবকে ডাকো, মিডল অর্ডারে ৫০ টা রান দরকার? তাহলে সাকিবকে পাঠাও! টপ অর্ডারে ব্যর্থতা? তাহলে সাকিবকে টপ অর্ডারে পাঠাও! সাকিব আমাদের কি দেয় নাই একবার বলবেন কি? তার সবটা আমাদের উজাড় করে দিয়েছিল। যেখানে এক সাকিব একাদশে না থাকলে একাদশ সাজাতে হিমশিম খেতে হয় সে সাকিবের সাথেই কেন বাড়াবাড়ি করতে হবে! সাকিব শুধু বাংলাদেশের না, পুরো ক্রিকেট বিশ্বেরই একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি অলরাউন্ডার খেতাব পাওয়া দেখাতে পারবেন, কিন্তু আপনার কাছে চ্যালেন্জ তাদের কাউকেই ব্যাটে বলে সমান হতে দেখবেন না। আচ্ছা আপনি নিজেই নিজেকে একটা ছোট প্রশ্ন করুন, সাকিব আসলে কি অলরাউন্ডার? ব্যাটিং না বোলিং অলরাউন্ডার? কি! উত্তর পেয়েছেন? পাবেন না জানি, এটাই রহস্য! আপনি যতই সাকিবের হ্যাটার্স হোন না কেন, আপনি ও এটা জানেন যে সাকিবের বিকল্প দূর থাক আরেকটা সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেট এই শতাব্দীতে পাবে না। কারনটা কি জানেন? কারন হলো এই সাকিবরা জন্ম হয়, তৈরি হয় না ☺ আবেগ বাদ দিয়ে বিবেক দিয়ে ও চিন্তা করলে আচ করা যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট আর সাকিব সমার্থক শব্দ। শেষমেষ প্রতিহিংসার আগুনে জর্জরিত হয়ে সাকিবকে একরাশ অভিমান নিয়ে চলে যেতে হলো, কিন্তু এতে ক্ষতিটা হয়েছে কার? আজকে একটা নির্বাচন দিলে কাল একটি বিসিবির নতুন কমিটি পাওয়া যেতো, কিন্তু আজকে একটা ট্রেনিং দিয়ে কালকে কি একটা সাকিব পাবে? শুধু কালকে কেন এই শতাব্দীতে পাবে কি সন্দেহ! কারন নামটা যে সাকিব, যার পাল্লা ভয়ংকর ভারী। সংবাদ সম্মেলন এ, সাকিবের বক্তব্যের পর পাপ(ON) যখন বক্তব্য দিচ্ছিলো তখন ওর চেহারার দিকে তাকানোও যায় নি 😭😭😭 যাইহোক, সবাই তো বলতেছেন যে আগামী অক্টোবর এর ২৯ তারিখে ক্রিকেটে ফিরবে সাকিব। তারমানে টি-২০ বিশ্বকাপের মাঝামাঝি তে। আর যতদূর মনে হয়, বাংলাদেশ কে টি-২০ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই খেলতে হবে। যারা আয়ারল্যান্ড, ওমান,নিউগিনি, নেদারল্যান্ড এর প্রাক বাছাই দেখছেন তাদের কে বলছি আপনাদের কি মনে হয়? এই সাকিব কে ছাড়া আদৌ কি বাংলাদেশ কোয়ালিফাই করতে পারবে মূল পর্বে? যেখানে জিম্বাবুয়ের সাথেই টি-২০ তে হিমশিম খেতে হয়? পরিশেষে বলতে চাই, অনেক উপলক্ষের আনন্দ দেয়া সাকিব ভাই, তোমার পক্ষে আছি, আছি এবং আছিইইইইইইইই। #StayWithSAH75

Comments

Popular posts from this blog

যে ১০টি মুহূর্ত ধোনিকে ধোনি বানিয়েছে... ভারতীয় ক্রিকেট ধোনির মতো আর কাউকে পাবে কি?

লিটল মাস্টার শচীন। Little Master Shahin.. শচীন টেন্ডুলকারের জীবনী

সাকিবের ক্যারিয়ারের ‘১৪’ বছরে ১৪টি ঘটনা। সাকিব আল হাসান।